Image

Image

0


গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করার পর বেকারত্বের ২য় বছরে এসে নীলয় আজ বড়ই হতাশ অকর্মা এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে দৈনিক ১০ বার করে গালমন্দ  করে বাড়ী থেকে টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেছে আরো বছরখানেক আগেই কোনরকম টিউশনী আর কোচিং করিয়ে মাসগুলো পার করে দিচ্ছে বাড়ী থেকে টাকা পাঠানোর মত ও কোন অবস্থা নেই বরং প্রায়শ অভাবী বাবার সারাদিন শেষে ক্লান্ত আর পরিশ্রান্ত মুখখানা কল্পনা করে হৃদয় হাহাকার করে উঠে নীলয়ের তার যদি কোন ব্যবস্থা হত বাবাকে হয়তো এতো কষ্ট করতে হত না  
বাড়ীতে ফোন দিলেই মায়ের একই কথা, বাবা কোন ব্যবস্থা হল? এই প্রশ্নের কোন উত্তর নীলয় দিতে পারেনা ছাত্র হিসেবে কখনোই খারাপ ছিলো না ভার্সিটি রেজাল্ট ও ভালো কিন্তু চাকরী পাওয়ার জন্য মনে হয় এগুলো কোনটাই যথেষ্ট না যেই কয়টা ভাইভা দিতে গিয়েছে, সেসব জায়গায় প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিলো, আগে কোথায় কাজ করেছেন এবং এই অফিসে আপনার রেফারেন্স কে? যার কোনটারই সদুত্তর সে দিতে পারেনি তাই চাকরী ও হয়নি
টিউশনীতে ছাত্রের মা বলে দিয়েছে, বাবা এই মাসটা একটু কষ্ট করে চলতে হবে, আমরা একটু সমস্যায় আছি তোমার আংকেল ব্যবসা নিয়ে একটু ঝামেলায় পড়েছে মন খারাপ করে বাসায় আসা ছাড়া আর কোন উপায় নেই নিজের সমস্যার কথা সে কাকে বলবে? মাঝে মাঝে আয়নাটা সাক্ষী থাকে আর জানে টেপের পানি ভাগ্যিস চোখের জলের আলাদা কোন রঙ নেই তাই কেউ কখনো বুঝতে পারে না এই পৃথিবীতে অগোচরে অশ্রু বিসর্জন দেওয়া মানুষের সংখ্যাটা কত
রাত ১১টা বাজে। এখনো বাহিরে বসে আছে সে। সিগারেটে শেষ টানটা দিয়ে চিন্তা করতে লাগলো বাসায় যাওয়া ঠিক হবে কিনা। বাড়িওয়ালাকে আজকে আসতে বলেছে। গত দুই মাসের বাসা ভাড়া বাকী। এর আগেও ২টা ডেট দিয়ে ও ভাড়া দিতে পারেনি। বাড়ীওয়ালা তাকে নিতান্তই স্নেহ করে বিধায় কিছু বলেনি। কিন্তু আজ আর মুখ দেখানোর উপায় নেই। একবার ভাবলো বন্ধু শরীফের বাসায় যাবে, পরক্ষনেই চিন্তাটা বাদ দিলো। শরীফ নীলয়কে অনেক ভালোবাসে। কিন্তু নিজের এই খারাপ সময়ে নীলয়ই নিজেকে কেমন জানি ঘুটিয়ে নিয়েছে। বন্ধুদের সাথে মিশতে ভালো লাগে না। অধিকাংশ সময়েই তারা নিজেদের অফিসের গল্প শুরু করে দেয়, যেটা নীলয়ের একেবারেই সহ্য হয়না। শরীফ সে রকম না। নীলয়ের চাকরীর জন্য সে নিজের পরিচিতদের মধ্যে কম খোঁজ খবর করেনি।  সবার একই কথা, সিভিটা দিও, বুজোই তো চাকরীর বাজারের অবস্থা ভালো না। দেখি কিছু করা যায় কিনা। শরীফ সব সময় নীলয়কে সাহস যোগানোর চেষ্টা করে। কিন্তু তাও আজকে তার বাসায় যেতে ইচ্ছে করছে না নীলয়ের।
একবার ভাবলো পার্কের বেঞ্চে বসেই রাতটা পার করে দিবে, কিন্তু পারলোনা। কিছুক্ষন মশার অত্যাচার সহ্য করে বাসায় চলে আসলো। রাত ১২ টা বাজে। ভাগ্যিস কেউ তার জন্য অপেক্ষায় নেই। খেতে গিয়ে দেখে গরমে ডালটা টকে গিয়েছে। সমস্যা হওয়ার কথা না, সমস্যা হলোও না। এরকম তো কতই হয়েছে। যেই রাতগুলো নির্ঘুম কাটে সেইসব রাতে মাথায় আজগুবি চন্তা ভাবনার অভাব হয় না। চিন্তা ভাবনাগুলো খারাপ না তার, বরং সাময়িক মজা পায়। প্রায় নির্ঘুম রাতেই সে স্বপ্ন দেখে তার অনেক টাকা হবে। কোন সমস্যা থাকবে না। মা বাবা দুজনকেই ঢাক্য নিয়ে আসবে। টকে যাওয়ে ডাল দিয়ে আর কয়দিন খাবে। চিন্তা ভাবনাগুলোও স্পেসিফিক। ব্যবসা করে টাকা আয় শুরু করবে সে। কিন্তু কি ব্যবসা করবে, ব্যবসা করার জন্য কোথায় টাকা পাবে এইসব ভাবতে ভাবতেই ঘুমিয়ে পড়ে সে। আর সকালে ঘুম ভাঙলেই রাতের চিন্তাগুলো মনে থাকে না। শুরু হয়ে যায় সেদিনের ব্যস্ততা, যদিও নীলয়ের তেমন কোন কাজ নেই।
জগতে যাদের নির্দিষ্ট কোন কাজ নেই তাদেরই ব্যস্ততা বেশী। নীলয়ের ক্ষেত্রে ও সেটা ঘটে।

আজকে শরীফের সাথে দেখা করা দরকারশরীফই তাকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বলেছে। শরীফ তাকে আগেও তাকে বলেছে টাকা আয়ের একটা ব্যবস্থার কথা, ফ্রিল্যান্সিং না কি যেনো নাম। সে বিষয়ে আজকে একটি কর্মশালায় যেতে হবে। বিকেলে কর্মশালায় গিয়ে তো নীলয়ের মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা। যে পরিসংখ্যান সে শুনছে তাতে বাংলাদেশ ফ্রিল্যাংসিং এ বিশ্বে ২য়-৩য় অবস্থানে আছে। তার মত হাজার যুবক নাকি কামিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার ডলার। খুব মনযোগ দিয়ে সে সেমিনার শুনলো। রাহাত নামে একজন খুব সুন্দর করে পুরো বিষয়টা উপস্থাপন করছে। নীলয়ের অনেক ভালো লেগেছে প্রোগ্রামটা। শরীফ তাকে এই কাজ করে এমন কয়েকজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলো। যেসব কাজ করে ফ্রিল্যাংসিং করা যায় তার একটা লিস্ট হাতে পেলো নীলয়। সেদিনের মত বাসায় চলে আসলো নীলয়। কম্পিউটার নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি সে ও করেছে, কিন্তু কম্পিউটার দিয়ে আয় করা যায় এটা সে জানতো না।
দু দিনের মধ্যেই সে ভর্তি হল একটি প্রশিক্ষন কেন্দ্রে। তার রাতের স্বপ্নগুলো এখন আরো ডালপালা মেলতে লাগলো। খুব মনযোগ দিয়ে কাজ শিখতে লাগলো নীলয়। দিনে টিউশনী, কোচিং আর রাত জেগে কাজ শিখা আর প্র্যাকটিস চলতে লাগলো। দুমাস পরে বড় ভাইদের পরামর্শে সে  freelancer.com এ একটি একাউন্ট খুললো, যেটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মার্কেটপ্লেস।
কাজ সে ভালোই শিখেছে। কোচিং সেন্টারের ভাইয়েরা তার কাজের খুব তারিফ করতে লাগলো। ইমন ভাই মাঝে মাঝে তার কাজের কিছু অংশ নীলয়কে করতে দেয়। কাজ করতে ভালোই লাগে ওর। পাশাপাশি অনলাইনে কাজের ব্যাপারে সে অনেক খোজ খবর করা শুরু করলো। নিয়মিত বিড করছে কাজে। এরকম একটা জিনিস এতোদিন তার নজরে আসেনি কেনো এটা ভেবেও সে নিজেকে অভিসম্পাত করতে লাগলো।  তার সবপ্নগুলো এখন আরো বড় হচ্ছে। কাজ তার মনোবলকে চাঙ্গা করে দিচ্ছে।
কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই মনোবল হতাশায় পরিনত হতে লাগলো। কারন এখন পর্যন্ত ১০৩ টা কাজে বিড করেছে কিন্তু এখনো কোন কাজ পায়নি। কোচিং্যের বড় ভাইয়েরা বুজিয়েছে যে প্রথম কাজ পাওয়াটা একটু কষ্টকর। প্রথম কাজটা পেলে পরে আর সমস্যা হবে না। আরো কিছুদিন বিড করে নীলয় পুরোপুরিই হতাশ হয়ে গেলো। মনে হচ্ছিল সব যেনো শুভংকরের ফাঁকি। আসলেই কিছুই না। না হলে তার বেলায় কেনো এমন হবে। সব ছেড়ে দিয়ে সে তার আগের জীবনে প্রত্যাবর্তন করলো। মধ্যেখানে ৫ টা মাস নষ্ট হল এই ভেবে খারাপ লাগতেছিলো।

হটাঠ একদিন ইমেইল চেক করতে গিয়ে তার চোখ আটকে গেলো। একজন আমেরিকান বায়ারের মেইল। তাকে ১৫ ডলারের একটা কাজের অফার করেছে। আনন্দে নীলয়ের চোখে পানি এসে গেলো। দ্রুত কোচিং সেন্টারের ইমন ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলো সে। ইমন ভাইয়ের পরামর্শে একদিনের মধ্যেই কাজটা শেষ করলো। প্রথমেই বায়ারকে একটা থ্যাংকস গিভিং মেইল দিলো। এখন সুন্দর করে আরেকটা মেইল লিখতে হবে। কাজ সাবমিট করার আগে সে নিজেই অনেকবার চেক করে নিলো। মনে মনে আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করে প্রথম কাজটা সাবমিট করলো।
দু-দিন পরে বায়ার তার মেইল রিপ্লাই করেছে। তার কাজে খুশি হয়ে বায়ার তার প্রোফাইলে একটা সুন্দর রিভিউ লিখে দিলো এবং ৫ স্টার রেটিং দিলো। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি নীলয়কে।

৫ বছর পরের কথা। ইন্টারফেস টেকনোলজিস লিমিটেডের অফিস। এম ডি নীলয় সাহেব বসে আছেন তার অফিসে। বাহিরে বুয়েটের ১০ জন গ্রাজুয়েট বসে আছে ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য।

       ........ ...........................................সমাপ্ত...................................................

Next
This is the most recent post.
Previous
Older Post

Post a Comment

Dear readers, after reading the Content please ask for advice and to provide constructive feedback Please Write Relevant Comment with Polite Language.Your comments inspired me to continue blogging. Your opinion much more valuable to me. Thank you.